Friday, December 14, 2018

make money online

A digital single-lens automatic camera is a digital camera that combines the eyes and the mechanisms of a single-lens reflex camera with a digital imaging sensor, as controverted to photographic film. The reflex design scheme is the principal difference between a DSLR and other digital cameras. DSLRs typically use autofocus based on phase detection. This method allows the optimal lens position to be computed, rather than "found", as would be the case with autofocus based on dividing line maximization. autofocus is typically faster than other inactive techniques. As the phase sensor demands the same light going to the image sensor, it was previously only possible with an SLR design. However, with the introduction of the focal-plane phase detect autofocusing in mirrorless

source:https://www.youtube.com/watch?v=3MpdHUs0pDQ

Friday, November 23, 2018

Batsmen rain on Nayeem's parade

If the first day was action-packed, yesterday's second was a blockbuster at the Zahur Ahmed Chowdhury Stadium in Chattogram. Bangladesh's debutant off-spinner Nayeem Hasan, 10 days short of his 18th birthday, became the youngest bowler in Test history to take five wickets on debut but the batsman took some of the gloss off the achievement to the point that West Indies, from being on the ropes, are now in a position of parity -- if not ascendancy -- in the second Test.
Much of the credit for producing two enthralling days of Test cricket should go to the wicket as it enabled the spinners to dominate, while also being true enough to allow a gem of a cameo from West Indies' Shimron Hetmyer.
Like on the first day, the last session of the day changed the complexion of the match. While Taijul Islam and Nayeem Hasan's 56-run ninth-wicket stand wrested the initiative back in the hosts' favour on Thursday, yesterday they surrendered it by losing five wickets for 55 runs after Nayeem's five for 51 had secured a 78-run first innings lead.
West Indies had started the session -- during which nine of the day's 17 fell -- on 187 for six and Dowrich was intent on the attacking mindset that Hetmyer had set before the break. He smoked a six off Mehedi in the second over of the session, but that gain was offset by Nayeem -- bowling with the wiles of a veteran -- in the next over as he beat Devendra Bishoo's attempted sweep and trapped in front with a slightly quicker delivery and got rid of Kemar Roach, also leg-before. From 205 for eight Jomel Warrican helped Dowrich take West Indies to 225 before he was castled by arguably the best delivery of the day. Nayeem looped one up outside the off stump and it spat back through the gate to hit middle stump.
Dowrich then added a four and six off Nayeem's next over before hitting another maximum in the next over by Shakib, which also yielded the wicket of Shannon Gabriel, who was caught at slip to signal the end of West Indies' innings with 246 runs on the board. Dowrich was unbeaten on 63.
Far from driving home the advantage, however, Bangladesh opener Imrul Kayes set the tone in the second over of their second innings by driving left-arm spinner Warrican against the turn and losing his stumps. Soumya Sarkar took the cue and played an airy waft to off-spinner Roston Chase in the next over and was caught at slip. First-innings centurion Mominul Haque was not much better -- after hitting Chase for four through midwicket in the seventh over, he played across the line in the last ball of the over to be trapped plumb in front. Skipper Shakib Al Hasan, when he should have been looking to take the side safely to the close in the fading light, slog-swept Warrican off the second ball he faced to be caught at deep square leg. The quintet was completed when Mohammad Mithun, who continues to look out of his depth at number four, played needlessly back to a Bishoo delivery and was bowled off his pads, ending an 18-run stand with Mushfiqur Rahim. Instead of Mahmudullah Riyad, Mehedi came out and along with Mushfiqur took the team to the close without any further damage.
Earlier, Bangladesh's innings lasted just 4.4 overs for the addition of nine runs after lower-order batsmen Taijul Islam and Nayeem Hasan resumed the day on 315 for eight. It was time enough for Taijul to unfurl a cover drive off Roach that would have made a top-order batsman proud, but Nayeem's staunch resistance ended in the 93rd over, when he pushed at a delivery outside off stump from left-arm spinner Warrican and got an edge that was gobbled up by slip. Last man Mustafizur Rahman lasted just two balls as he was trapped in front, giving Warrican figures of four wickets for 70 runs.
Answering a first-innings score of 324 on a pitch that was already turning square was always going to be difficult for a side not famous for their facility against spin. Kieran Powell was the first to fall in the 11th over when he missed the line of a ball from left-arm spinner Taijul and was trapped leg before.
Shai Hope left in the very next over when skipper Shakib, bowling his first ball back from a finger injury, got the ball to turn sharply from outside the right-hander's leg stump and Hope played a poor shot all around the line of the ball to be bowled.
In the same over, new batsman Sunil Ambris was dropped behind the wicket by Mushfiqur, but Shakib was compensated for that by the wicket of his counterpart Kraigg Brathwaite, who pushed at a dipping delivery and was caught well at slip by Soumya Sarkar. Mustafizur then dropped Roston Chase off Shakib in the over before lunch, the 19th, allowing the visitors to reach the break on 54 for three.
After lunch, Nayeem found his groove immediately after coming in to the attack in the 26th over. He almost had Ambris stumped down the leg side with a big-spinning delivery, but Mushfiqur failed to get the bails off at the first attempt
Nayeem got his maiden Test wicket as he had Chase caught off a forward defence at short leg for 31, leaving his side on 77 for four in the 30th over.
With unsure defence not bearing any fruit, new batsman Hetmyer chose attack instead. In a half-century partnership with Dowrich, Hetmyer hit 63 off 47 balls with five fours and four sixes. On 180 for five in the 46th over, Mehedi produced the ideal ball to draw Hetmyer forward and, although the left-hander did not push at it as his teammates had done, took a healthy edge for Mushfiqur to take a sharp reflex catch. Storm Hetmyer was over and normal service resumed as West Indies went to tea on 187 for six in 50 overs.


source:https://www.cricbuzz.com/cricket-news/105293/nayeem-hasan-bringing-strength-through-variety

Sunday, August 12, 2018

২০১৯ বিশ্বকাপে খেলতে চাই : আশরাফুল

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা। আকসু প্রতিনিধিদের কাছে ২০১৩ বিপিএলে ম্যাচ পাতানো ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন আশরাফুল। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা আগামীকাল ১৩ আগস্ট শেষ হচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এই মুহূর্তে আছেন লন্ডনে। গত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, নিজের উপলব্ধি আর ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনের মুখোমুখি হলেন তিনি* এই মুহূর্তে লন্ডনে কী করছেন?
আশরাফুল: ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ম্যাচ খেলছি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। আগামী বিশ্বকাপে হবে এখানে। জাতীয় দলে খেলা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা উঠে যাচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা।

* জাতীয় দলের প্রসঙ্গে পরে আসছি। যেটা বলছিলেন, অবশেষে পুরোপুরি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন নিষেধাজ্ঞা থেকে—নিশ্চয়ই ভীষণ স্বস্তি দিচ্ছে বিষয়টা?মোহাম্মদ আশরাফুল: এই দিনটার জন্য গত সাড়ে ৫ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। পুরোপুরি মুক্ত হব কবে, পুরোপুরি খেলায় ফিরতে পারব কবে, জাতীয় দলে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত হব কবে—এমন ভাবনা কাজ করেছে অনেক দিন। অবশ্যই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে। অবশ্য গত দুই বছর ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ খেলছি। নিষেধাজ্ঞা ছিল জাতীয় দল ও বিপিএলে। দুটিই পুরোপুরি কেটে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে।

* ব্যক্তিগত কিংবা খেলোয়াড়ি জীবন—দুটিই কতটা কঠিন ছিল এই সাড়ে পাঁচ বছর?আশরাফুল: শুধু আমার নয়, কঠিন সময় গেছে আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু—সবারই। খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি, ছোটবেলায় মাদারটেক থেকে ধানমন্ডি হেঁটে হেঁটে অনুশীলনে যেতাম। অনেক পরিশ্রম করে ক্রিকেটার হয়েছি। গত সাড়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশের এমন কোনো ম্যাচ নেই, যেটা আমি দেখিনি। খেলতে পারিনি—একটা কঠিন সময় তো গেছেই। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে বেশি কঠিন গেছে। এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি।

* নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে হতাশা থেকে কখনো ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা এসেছে?
আশরাফুল: নাহ, কখনোই মনে হয়নি। ওই ঘটনা যখন ঘটেছে, তখন থেকে মনে হয়েছে, আমাকে আবার ফিরতে হবে। আবার দেশকে কিছু দিতে হবে। আমি একটি ভুল করেছি। সেটা স্বীকারও করেছি। সততা থেকে যদি ফের কিছু করতে পারি, সেটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। যখন স্বীকার করেছিলাম (স্পট ফিক্সিংয়ের কথা), ওই সময় ভেবেছি যদি আরেকটা সুযোগ পাই কিছু করে দেখাতে হবে। যেহেতু আমি ব্যাটসম্যান। এই সাড়ে পাঁচ বছরে কখনোই মনে হয়নি যে ফিরতে পারব না। কিছুটা সৌভাগ্যবান, দেশে কিংবা দেশের বাইরে ভক্ত-সমর্থকেরা প্রচুর সমর্থন জুগিয়েছেন আমাকে। আগে যখন খেলতাম, ভক্তসংখ্যা যদি ৫০ হয়, স্বীকার করার পর সেটি বেড়েছে অনেক। যারা ভক্ত ছিল না, তারাও এখন অপেক্ষা করছে—ফিরে এসে কেমন করি, সেটা দেখতে। এ-ও সত্যি, অনেকে চান না আমি ফিরি।

ট্রাফিক সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িতে বাসের ধাক্কা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেই এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিল বেপরোয়া বাস। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া নয়টার দিকে রাজধানীর হৃদরোগ হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা দেওয়া যাত্রীবাহী বাসটি তখন চালাচ্ছিলেন হেলপার (চালকের সহকারী)। অবশ্য চালক তখন বাসেই ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ বাসটির চালক ও সহকারী দুজনকেই আটক করেছে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরপরই এ ঘটনা ঘটল। এই আন্দোলনের মধ্যেই সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের গাড়িকে বাসের ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ গত রাত একটায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িটি হৃদরোগ হাসপাতাল এলাকা থেকে নাখালপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি মিরপুর থেকে মতিঝিল রুটে চলে। ঘটনার পরপরই রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বাসটি আটক করেন। চালক ইব্রাহিম খলিল ও সহকারী মানিককে থানায় আনা হয়েছে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাসটিও থানায় এনে রাখা হয়েছে।পুলিশ জানায়, বাসের ধাক্কায় মন্ত্রীর গাড়ির পেছনের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে মন্ত্রীসহ গাড়ির আরোহীদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
এদিকে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে গত ছয় দিনে সারা দেশে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪২৩ টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
গত ছয় দিনে ৪০ হাজার ৬০৩ জন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৪টি যানবাহন। মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি যানবাহনের চালক ও পথচারীদের উদ্দেশে প্রচার করা হচ্ছে সচেতনতামূলক বার্তা।
এসব মামলার মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে রাজধানীতে। জরিমানার প্রায় ২ কোটি টাকাই আদায় হয়েছে রাজধানীতে। এত কিছুর পরও রাজধানীর সড়কে কমছে না নৈরাজ্য। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ছয়টি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে যানবাহন ও পথচারী অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। এরপরও যানবাহনচালক এবং পথচারীদের নিয়ম অমান্য অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো চলছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলছেন, মানুষ আইন ভাঙছে। তাঁরাও মামলা দিচ্ছেন। অনেকে আগের চেয়ে সচেতন হলেও সংখ্যায় তা কম।
মিরপুর ১ নম্বর গোলচত্বর, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার এবং সায়েন্স ল্যাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সাধারণ পুলিশ সদস্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, বিমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিলেন।
গাবতলীর পর্বত সিনেমার কিছু আগে পুলিশ বক্স। ঢাকায় যে যানবাহন ঢুকছে তার অধিকাংশের কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। একটু সামনে পুলিশের রেকার রাখা। দুজন সার্জেন্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করে মামলা দিচ্ছিলেন।
গাবতলী এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জসিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আগের থেকে বেশি সজাগ আছি। মামলাও হচ্ছে আগের থেকে বেশি। মানুষকে সচেতন হতে হবে। মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার এবং বৈধ কাগজ সঙ্গে থাকলে কোনো সমস্যা নেই।’
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আরোহীর হেলমেট না থাকায় ২০০ টাকা মূল্যের একটি মামলা করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। হেলমেট না থাকার বিষয়ে চালক মনসুর আহমেদ বলেন, ‘এত দিন পুলিশ চালকের হেলমেট না থাকলে মামলা দিত। চালকের হেলমেট ছিল। আরোহীর হেলমেট বাধ্যতামূলক লাগবেই জানতাম না। এখন থেকে রাখব।’
গত ছয় দিনে ট্রাফিক সদস্যরা যত মামলা দিয়েছেন এর মধ্যে ২১ হাজারের বেশি মামলা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। এ সময় মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে প্রায় ৮৫০ টি।
মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা সড়কের মাঝামাঝি চলে এসেছেন। একটি বাস এলে যাত্রীরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বাসচালকেরা সড়কের মাঝখানেই বাস থামিয়ে যাত্রী নামাচ্ছেন, ওঠাচ্ছেন। অথচ বাস দাঁড়ানোর নির্ধারিত জায়গা এর থেকে কিছুটা সামনে।
ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে পথচারীদের যত্রতত্র পারাপার না হতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেখা যায়, বাংলামোটর মোড়ে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। দুই পাশেই লোকজন সড়ক পার হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। চলন্ত গাড়ির মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেলেই দৌড় দিচ্ছেন। অথচ মোড়ের ওপরেই পদচারী-সেতু।
রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দিনে মামলা হয় ৭ হাজার ৮১ টি, জরিমানা আদায় হয় ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। ওই দিন ৫৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৭০৮টি গাড়ি রেকার করা হয়। দ্বিতীয় দিন ৭ হাজার ৩১৯টি মামলা হয় ও ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ টাকা জরিমানা হয়। এ সময় ১৪২টি মোটরসাইকেল আটকসহ ৮৩৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও রেকার করা হয়।
তৃতীয় দিনে ৯ হাজার ৪৭০টি মামলা ও ৫৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। ৯৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং ও রেকার করা হয়। চতুর্থ দিনে ৯ হাজার ৯৭৪টি মামলা ও ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৫৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও রেকার করা হয়। পঞ্চম দিনে ৪ হাজার ৪৮৪টি মামলা হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জনগণকে সচেতন করাই ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্দেশ্য। যেন জনগণের মধ্যে আইন মানার মানসিকতা গড়ে ওঠে। নিয়মিত মামলার পাশাপাশি পদচারী-সেতু ব্যবহার না করা, যততত্র পারপারের কারণেও মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।

Monday, August 6, 2018

হোয়াটসঅ্যাপ না খুলেই পড়া যাবে মেসেজ

বেড়েই চলছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষ করে মেসেজ আদান প্রদানের জন্য এটির চাহিদা বেশ। এছাড়া ভয়েস কল করা যাওয়ায় তা পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। 
 
তবে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত হোয়াটসঅ্যাপের রয়েছে কিছু সমস্যা। এর মধ্যে একটি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দেখতে হলে প্রতি বার হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেখতে হয়। এতে বেশ সময় নষ্ট হয়। এবার এই সমস্যার সমাধানের দিকে এক ধাপ এগোল হোয়াটসঅ্যাপ। 
 
অ্যাপ না খুলেই মেসেজ পড়ার সুবিধা নিয়ে এল তারা। নোটিফিকেশন থেকেই ইউজাররা মেসেজ পড়ে নিতে পারবেন। সেখান থেকে মার্কও করতে পারবেন ‘রিড’ বলে।
 
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্যক্তিগত হোক বা অফিসিয়াল সব দিক থেকেই কাজে দেবে নতুন এই ফিচার। ফলে ঘন ঘন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে বিরক্ত হতে হয় যাদের, তাদের কাজে দেবে এই ফিচার।
 
তবে ফিচারটি এখনো সব গ্রাহকরা ব্যবহার করতে পারছেন না। এটা পরীক্ষামূলকভাবে শুধু মাত্র হোয়াটসঅ্যাপের বিটা ভার্সনেই পাওয়া যাচ্ছে। এই হোয়াটসঅ্যাপ বিটা পেতে গেলে ইউজারকে ২.১৮.২৩২ ভার্সন ডাউনলোড করতে হবে।

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসছে মঙ্গল

দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণের পর এবার মঙ্গল গ্রহ দর্শনের সুযোগ আসতে চলেছে বিশ্ববাসীর কাছে। আজ মঙ্গলবার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসছে মঙ্গল গ্রহ। প্রায় ১৫ বছর পর ঘটতে চলেছে এই ঘটনা। 
 
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে মঙ্গল। লালগ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব থাকবে মোটে ৩৫.৮ মিলিয়ন মাইল। মঙ্গলবার রাতে মঙ্গল আর পৃথিবী চলে আসবে একই রেখায়। মঙ্গলবার রাতে মঙ্গল আর সূর্য মহাকাশে ঠিক বিপরীত দিকে থাকবে। ওই সময় সূর্যের আলো সরাসরি পড়বে মঙ্গলের উপর। ফলে, মঙ্গলের উজ্জ্বল্য ওই সময় সবচেয়ে বেশি হবে। যার ফলে পৃথিবী থেকে লালগ্রহের দর্শন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। টেলিস্কোপের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই দেখা যাবে মঙ্গলগ্রহকে। মঙ্গলের উজ্জ্বল্য অনেক বেশি হলেও দূরত্বের কারণে পৃথিবী থেকে তেমন উজ্জ্বল দেখাবে না লালগ্রহকে।  মঙ্গলগ্রহ দেখার জন্য আকাশ পরিষ্কার থাকতে হবে। কোনোভাবেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকলে চলবে না।
 
পৃথিবী ও মঙ্গলের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়াটা অবশ্য বিরল ঘটনা নয়। প্রতি ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে অন্তত একবার এমন ঘটনা ঘটে। শেষবার পৃথিবী আর মঙ্গলের দূরত্ব সর্বনিম্ন হয়েছিল ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট। ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর আবার এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১১৬৬ টাকা

১৭ দিনের ব্যবধানে সোনার দাম আবার কমেছে। অলংকার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এ ধাতুর দাম সোমবার থেকে প্রতিভরি সোনা এক হাজার ১৬৬ টাকা কমছে। তবে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার নতুন এ মূল্য সম্পর্কে জানিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে সোনার দাম কমেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় বলে দাবি করেছে বাজুস।
 
বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ভাল মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ৪৭ হাজার ৪৭২ টাকা দরে। রবিবার পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি বিক্রিমূল্য ছিল ৪৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে এ মানের সোনার দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরিতেও একই পরিমাণে দাম কমেছে। 
 
সোমবার থেকে পরবর্তী দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি বিক্রি হবে ৪৫ হাজার ১৯৮ টাকা দরে। আগে এ মানের প্রতি ভরি সোনার বিক্রিমূল্য ছিল ৪৬ হাজার ৩৬৪ টাকা। আর ১৮ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি বিক্রি দর দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ১২৪ টাকা। রবিবার পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি দাম ছিল ৪১ হাজার ২৯০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরিপ্রতি ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকায় অপরিবর্তিত আছে। এ দিকে রূপার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। ২১ ক্যাডমিয়ামের প্রতি ভরি রুপার বিক্রিমূল্য এক হাজার ৫০ টাকা।

সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর খসড়া। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইনের এ খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 
 
নতুন আইন অনুযায়ী বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ আহত বা নিহত হলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায় মামলা দায়ের হবে। আর এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমান এই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে।
 
তবে গাড়ি চালানোর কারণে কারো নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে হত্যা বলে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হতে পারে।
 
নতুন আইনে বলা হয়েছে, গাড়ি চালানোর অপেশাদার লাইসেন্স পেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাস ও ১৮ বছর হতে হবে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর হতে হবে।
 
এছাড়া লাইসেন্সেপ্রাপ্ত চালকের জন্য থাকবে ১২ পয়েন্ট। অপরাধ করলে পয়েন্ট কাটা যাবে। এভাবে ১২ পয়েন্ট শেষ হয়ে গেলে লাইসেন্স বাতিল হবে। অপরদিকে কোনো অপরাধী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন না। আগে যেসব অপরাধী লাইসেন্স পেয়েছে তা বাতিল করা হবে।
 
খসড়া আইনে যা আছে:
 
খসড়া আইনানুযায়ী গাড়ি চালানোর সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। সড়কের ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো ধরনের মোটরযান চলাচল করতে পারবে না। করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। আগে গাড়ি চালকদের লেখাপড়ার বিষয়ে কিছু না থাকলেও নতুন আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। কন্ডাক্টর বা চালকের সহযোগীকে কমপক্ষে লেখার ও পড়ার সক্ষমতাসহ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে। যদি কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায় তবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কেউ এই অপরাধ করলে তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যাবে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স লাগবে। কন্ডাক্টরের লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
 
জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে আগে শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা। প্রস্তাবিত আইনে মূল শাস্তি কারাদণ্ড আগের মতোই আছে, জরিমানা ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফিটনেস না থাকা মোটরযান চালালে বর্তমানে শাস্তি রয়েছে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা। সেখানে এখন শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ শাস্তি পাবেন মূলত গাড়ির মালিক।
 
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জাবালে নূর পরিবহনের বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হন। পরের দিন থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান করে বেপরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। রবিবারও অব্যাহত ছিল শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন।
 

‘টি-টোয়েন্টিতে এখন যে কোনো দলকে হারাতে পারে বাংলাদেশ’

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ছয়টায় শুরু হওয়া তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ১৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে ঘরে তুলে সিরিজ। হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর সতীর্থরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তাতে মুগ্ধ সাকিব।
“প্রথম ম্যাচে হারার পর আমরা দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছি। ছেলেদের এই প্রচেষ্টা ছিল অবিশ্বাস্য। যারা খেলেনি তাদেরও যথেষ্ট অবদান আছে। যেভাবে পেরেছে সহায়তার চেষ্টা করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি ছেলেদের কাছ থেকে চাইতে পারতাম না।”
“আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছি, নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এখান থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস নিতে পারি। টি-টোয়েন্টিতে আমরা খুব একটা ভালো করি না, রেকর্ডও সেই কথা বলছে। টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো পারফরম্যান্স খুব একটা নেই। আশা করি, আমরা এখান থেকে এগিয়ে যেতে পারব।” 
প্রথম ম্যাচে হারার পর বাংলাদেশ এই প্রথম জিতল কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাকিব মনে করেন, এখান থেকেই শুরু হবে তাদের নতুন পথ চলা।
“এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ আমাদের আত্মবিশ্বাসী করবে, আমরা এখন যে কোনো বড় দলকে হারাতে পারি। আমরা এখন জানি কি করে ম্যাচ জিততে হয়। কিছু ‘টাইট’ ম্যাচ আমরা শেষ দিকে হেরে গেছি। তেমন ম্যাচে এখন জেতা শুরু করেছি। আশা করি, আমরা এটা ধরে রাখতে পারব।”
খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যায় আসা বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন অধিনায়ক।
“এখানে প্রচুর দর্শক ছিল। অনেকেরই কালকের ম্যাচের পর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই ম্যাচের জন্য যাননি। আমাদের কখনও মনে হয়নি দেশের বাইরে খেলছি। লম্বা সফরের শেষে এসে এমন সমর্থন আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছে। তারা যেন ছিলেন আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি।

ঢাবিতে ১ম বর্ষে ভর্তির আবেদন শুরু ৩১ জুলাই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৩১ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি বিষয়ক সাধারণ ভর্তি কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় আজ এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই অনলাইন আবেদন আগামী ২৬ আগস্ট রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, খ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১২ অক্টোবর শুক্রবার, চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) ১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার এবং চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (অঙ্কন) ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ৫ অক্টোবর

আগামী ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা হবে ৯ নভেম্বর। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এতে সভাপতিত্ব করেন।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২৭ আগস্ট এবং আবেদন জমার শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর। বিডিএস ভর্তির অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৬ থেকে ২৭ অক্টোবর। শিগগির এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।
সভায় অতীতের মতো কঠোর নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একটি স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস ভর্তির সুযোগ পাবেন বলে এ সময় মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় অন্যদের মাঝে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিনসহ চিকিৎসক নেতা, সাংবাদিক নেতা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর শুরু

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৮ নভেম্বর। শেষ হবে ২৬ নভেম্বর। আজ বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ পরীক্ষাসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
কর্মকর্তা বলেন, এবার সকাল সাড়ে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার সময় আগের মতোই আড়াই ঘণ্টা। আগে পরীক্ষা শুরু হতো বেলা ১১টায়। এবার উত্তরপত্র মূল্যায়ন হবে একই উপজেলায়। আগে ভিন্ন উপজেলায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো। এবার থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। আগে এ সময় দেওয়া হতো ২০ মিনিট। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমছে!

• সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর বিষয়ে ৮ আগস্ট সভা। 
• আর ৯ আগস্ট থেকে ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহার নয়-ছয় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদহার যথাক্রমে নয় ও ছয় শতাংশ কার্যকর সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কত কমবে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৮ আগস্ট অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ৯ আগস্ট থেকে ব্যাংকের নয়-ছয় সুদহার কার্যকর করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যালয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমানসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকঋণের সুদহার কমানোর আশ্বাস দিয়ে সরকার থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিলেও সুদহার কমায়নি বেশির ভাগ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে কয়েকটি ব্যাংক এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। সুদহার কমানোর ঘোষণায় সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছে। ফলে পুরো আর্থিক খাতে একধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় এখন এসে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকেরা বলছেন, ছয় শতাংশ সুদে সরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমানতের সুদহারের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার সমন্বয় করতে হবে। কারণ, বেশি সুদের আশায় ব্যাংকের আমানত ভেঙে অনেকে সঞ্চয়পত্র কিনছে, ফলে টান পড়ছে আমানতে। 

গতকালের সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশে কোনো তারল্য-সংকট নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখার বিধান করার ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অনেক সুবিধা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, আমানতের সুদহার ছয় শতাংশের বেশি হবে না। ঋণের সুদহার নয় শতাংশ করতেই হবে। সেখানে কিছু ব্যাংকের আপত্তি আছে, বিশেষ করে ভোক্তা ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে।

 মুহিত আরও বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহার আমরা পর্যালোচনা করব। সঞ্চয়পত্রের সুদহার মাঝে মাঝে পর্যালোচনা করি। কোনো সময় দুই বছর, তিন বছর, আবার বছরেও হতে পারে। বাজারের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য না হলেই পর্যালোচনা করা হয়। এ নিয়ে আমরা ৮ আগস্ট সিদ্ধান্ত নেব। ৯ আগস্ট থেকে নতুন সুদহার কার্যকর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এটা করেছি। ৯ আগস্টের পর কেউ না মানলে আপনারা (সাংবাদিকেরা) রিপোর্ট করতে পারেন।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছু ব্যাংক ইতিমধ্যে নতুন সুদহার কার্যকর করেছে। ৯ আগস্ট থেকে সবাই করবে। আজকের সভায় সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যান ছিলেন। সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার সহযোগিতা দিয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংক পাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ পেয়ে গেছে।’

ইআরডিতে অনুষ্ঠিত সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘১ জুলাই থেকে আমরা নতুন সুদহার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে আমরাও ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে চাই। আমানতের সুদহারের বিষয়টা অর্থমন্ত্রী দেখছেন। আমানতের প্রভাবই পড়ছে ঋণের সুদে। আড়াই লাখ কোটি টাকা সরকারি আমানত আছে। এ আমানত পেলেই ঋণের সুদে প্রভাব পড়বে। আজকের সভায়, তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক পরিচালকেরা চেয়েছিল, সরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের টাকা ছয় শতাংশ সুদে বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করুক। তবে এ প্রস্তাব বাস্তবসম্মত না হওয়ায় এতে রাজি হয়নি মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে, ছয় শতাংশ সুদের সিদ্ধান্ত কার্যকরের বিষয়ে  নির্দেশনা দেবে।

আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১০ শতাংশের বেশি হওয়ায় তা কিছুটা কমানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে এ হার কতটা কমবে, তা ৮ আগস্ট বৈঠকে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

বন্ধুত্ব প্রকাশের ভাষা অগণিত

বন্ধুত্ব প্রকাশের ভাষা অগণিত। সংগীতেও বন্ধুত্ব নিয়ে কাজ হয়েছে অনেক। কাজ বলতে গান। বলাই যায়, সংগীত সৃষ্টিই হয় একাধিক স্বরের মেলবন্ধনের মাধ্যমে। এ কারণেই পৃথিবীজুড়ে আছে বন্ধুত্ব নিয়ে হাজার হাজার গান। প্রতিটি সংস্কৃতি, দেশ এবং ভাষায় বন্ধু বা বন্ধুত্ব নিয়ে গান হয়েছে এবং হচ্ছে। সামনেও নিশ্চয়ই হবে। বন্ধু দিবসের গানগুলো নিয়ে লিখেছেন পৃথ্বীরাজ
পাশ্চাত্য সংগীতে

গানে গানে বন্ধুত্বের প্রকাশ, সেই গান আড্ডায় বসে সবাই মিলে এক গিটারে সুর তোলাই হোক কিংবা ইনবক্সে আরেকজনকে পাঠিয়ে হোক মনের অব্যক্ত ভাবের সম্প্রসারণ—বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা গান সব সময়ই অবদান রেখেছে সম্পর্কের উষ্ণতা বোঝাতে। এ ক্ষেত্রে ভাষা, দেশ, ধর্ম, জাতি কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং সেসব ছাপিয়ে গেছে বন্ধুত্বের গান।
পাশ্চাত্য সংগীতের কথাই ধরা যাক। অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড কুইন-এর গান ‘ফ্রেন্ডস উইল বি ফ্রেন্ডস’ প্রকাশ পায় ১৯৮৬ সালে। জেমস টেইলরের একটি গান ‘ইউ হ্যাভ গট অ্যা ফ্রেন্ড’ প্রকাশ পায় ১৯৭১ সালে। প্রকাশের পর থেকে বন্ধুত্ব নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশের গানের তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে এই গান দুটি। শুধু এঁরাই নন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অনেক শিল্পী কাজ করেছেন বন্ধুত্ব নিয়ে। এর মধ্যে ফু-ফাইটারস ব্যান্ডের গান ‘ফ্রেন্ড অব আ ফ্রেন্ড’, মার্সমেলো অ্যান্ড এনা ম্যারির ‘ফ্রেন্ডস’, মাইলি সাইরাসের ‘ট্রু ফ্রেন্ড’, ব্রুনো মার্সের ‘কাউন্ট অন মি’ গানগুলো অন্যতম। গানের তালিকা না করে বলা যায় বন্ধুত্ব নিয়ে গান করেননি এমন সংগীতশিল্পীই পাওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে প্রতিনিয়তই নতুন আঙ্গিকে পরিবেশিত হচ্ছে মিউজিক ভিডিওসহ গান। যার মাধ্যমে দর্শকদের কাছে শিল্পীরা গানের মূল অভিব্যক্তি তুলে ধরতে পারছেন আরও নিখুঁতভাবে।
বাংলা গানে বন্ধু

আমাদের দেশীয় সংগীতেও বন্ধুত্ব নিয়ে সৃষ্টির কমতি নেই। বন্ধু আমার চলচ্চিত্রে ‘একটাই কথা আছে বাংলাতে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। বন্ধুত্ব নিয়ে উল্লেখযোগ্য গানগুলোর একটি এই গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী এবং মুন্না আজিজ। বাংলাদেশের বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যান্ডের বন্ধুত্ব নিয়ে গান আছে। সেগুলো জনপ্রিয়তার দিক থেকে একবিন্দুও কম নয়। যেমন ফিলিংসের গান ‘তবে বন্ধু নৌকা ভেড়াও’, চিরকুটের ‘বন্ধু গো’, ওয়ারফেজের ‘বন্ধু’, শূন্য ব্যান্ডের ‘বন্ধুর গান’ শিরোনামের গানগুলো তরুণদের মধ্যে সমানতালে জনপ্রিয়। শুধু ব্যান্ড নয়, একক শিল্পীরাও গেয়েছেন বেশ কিছু গান। গানগুলো জনপ্রিয় হয়েছে ঢের। পার্থ বড়ুয়ার গাওয়া ‘ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ’ গানটি শুনে বন্ধুকে মিস করেননি এমন মানুষ কমই আছে। আর তপুর গাওয়া ‘বন্ধু’ নতুন করে চিনিয়েছে প্রিয় বন্ধুকে। এই গানটির সংগীতায়োজন করেছিলেন রাফা। এ ছাড়া জয় শাহরিয়ারের কথা ও সুরে মিনারের গাওয়া ‘বন্ধু’ প্রকাশিত হয়েছে গত বছর। এই গানটিও পছন্দ করেছেন এই সময়ের তরুণেরা। আজকাল শুধু গান গাওয়া নয়, গানগুলোর দারুণ ভিডিও নির্মাণ করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে রেকর্ড লেবেল প্রতিষ্ঠানগুলো। আর দারুণ মিউজিক ভিডিওর ফলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে গানগুলো খুব দ্রুত পৌঁছেও যাচ্ছে শ্রোতার কাছে। শুধু এ দেশেই নয়। বন্ধুত্বের ছোঁয়া আছে ভারতের বাংলা গানেও। যেমন ‘বন্ধু তোমায় এ গান শোনাব’ গানটি চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের হলেও দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। আর সংগীতশিল্পী কবির সুমন এবং অঞ্জন দত্তের ‘দুটো বন্ধু’ শিরোনামের গানটি শোনার পর বন্ধুত্বে ভিত গড়ে দেয় এখনো। বাংলা গানের দুজন কিংবদন্তি শিল্পীর এই মনোজ্ঞ সৃষ্টি এখনো সমানভাবেই শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়ে যাচ্ছে।
পিছিয়ে নেই হিন্দি গান

বলিউডে বন্ধুত্ব-বিষয়ক হিন্দি গানের অভাব নেই। সত্তরের দশকে শোলে সিনেমার ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল গোটা ভারতেই। আধুনিক সময়ের গানগুলোর মধ্যে কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথের (কেকে) গাওয়া গান ‘ইয়ারো’ মুখে মুখে ঘুরেছে সবার। অভিজিৎ এবং উদিত নারায়ণের গাওয়া ‘দোস্তি কেয়া হ্যাঁয়’ গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায় ২০০৮ সালে। এদিকে পুরানি জিন্স চলচ্চিত্রের গান ‘ইয়ারি ইয়ারি’-ও পেয়েছে শ্রোতাদের ভালোবাসা। রং দে বাসন্তি চলচ্চিত্রে এ আর রাহমানের সুরে ‘রুবারু’ গানটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় রাতারাতি সুপারহিট পর্যায় চলে যায়।

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের ব্যান্ড জুনুনের গাওয়া ‘দোস্তি’ সাড়া ফেলেছিল উপমহাদেশে। ১৯৯৮ সালে জুনুন ব্যান্ডের দোস্তি অ্যালবামের এই গানটি টাইটেল ট্র্যাক হিসেবে প্রকাশিত হয় ওই সময়।

মূল কথা হলো, সংগীত এমনি একটি মাধ্যম যা মনের ভাব প্রকাশে কথ্য ভাষার থেকেও বেশি গভীরতা রাখে। বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত না করে তাকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখার জন্যই আমরা বন্ধুকে নিয়ে গান লিখি, সুর করি, সেই গান বন্ধুদেরই শোনাই। চারপাশের হাজারো নেতিবাচক প্রভাবকে এভাবেই প্রতিনিয়ত হাসিমুখে উপেক্ষা করতে পারি। বন্ধুর জন্যই তো সব, সবার জন্যই থাকুক বন্ধুত্ব।

লেখক: সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক

টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের

ফ্লোরিডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডি-এল পদ্ধতিতে ১৯ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। লিটন করেন ৩২ বলে ৬১। ১৭.১ ওভারে বৃষ্টিবাধায় খেলা থেমে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করতে পারে ৭ উইকেটে ১৩৫। মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৩১ রানে ৩ উইকেট
‘পোলা তো নয় সে আগুনেরই গোলা’, ১৭.১ ওভারে বৃষ্টিতে খেলা থেমে গেলে ফ্লোরিডার লডারহিল স্টেডিয়ামে বেজে উঠল মমতাজের জনপ্রিয় গানটা। গ্যালারিভর্তি লাল-সবুজের সমর্থকের উপস্থিতিই হয়তো ডিস্ক জকিকে বাংলা গান বাজাতে উৎসাহিত করেছে। ডিস্ক জকি বাংলা গান বাজিয়েছেন আর লডারহিলে সাকিবরা গেয়েছেন বিজয়ের গীত। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১৯ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
১৮৫ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বচ্ছন্দে এগোতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টিতে সব সময়ই দুর্দান্ত, এমন পরিচিতি থাকা ক্যারিবীয়দের বড় বিবর্ণ দেখা গেল ফ্লোরিডায়। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ম্যাচ একটা সময় হয়ে গেল আন্দ্রে রাসেল বনাম বাংলাদেশ। একদিকে সতীর্থরা আত্মসমর্পণ করছেন, অন্যদিকে রাসেল চালিয়ে যাচ্ছেন। মোস্তাফিজুর রহমানের ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে একেবারে সীমানার কাছে যখন আরিফুল হকের ক্যাচ হলেন ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার, বাংলাদেশ দলের উচ্ছ্বাস দেখে কে! ম্যাচের ফল যেন নির্ধারণ হয়ে গেছে ওই আউটেই। আসলেই তা-ই। ২১ বলে ৪৭ রান করা রাসেল ফিরতেই ঝেঁপে নামল বৃষ্টি! বৃষ্টির পর আর খেলা হয়নি। ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৫ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমে গেল ওখানেই। ডি-এল পদ্ধতিতে জিতে গেল বাংলাদেশ। সাকিব-তামিমরা অবশ্য আবার মাঠে নামলেন, তবে আর খেলতে নয়, ‘ল্যাপ অব অনার’ দিতে। মিরাজ-মোসাদ্দেকরা বিজয় উদ্‌যাপন করলেন নাচতে নাচতে!

উইন্ডিজকে হারানোর শক্তি বাংলাদেশ পেয়ে যায় দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরই। টস জিতলে ব্যাটিং আর ব্যাটিংয়ে নেমে ঝোড়ো শুরু—এই সূত্র মেনেই সিরিজনির্ধারণী টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা খেলতে নামে বাংলাদেশ। লিটন দাস দুর্দান্ত খেললে বাংলাদেশ যে উড়ন্ত শুরু পায়, সেটি গত মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে দেখা গেছে। আজ লডারহিলে আরেকবার দেখা গেল। লিটন-তামিমের উদ্বোধনী জুটি যে অসাধারণ শুরু এনে দিয়েছে, সেটি কাজে লাগিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

দুর্দান্ত শুরুতে পাওয়ার প্লে দারুণ কাজে লাগানো বাংলাদেশের সামনে ২০০ তোলা কঠিন কিছু ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৭ করা বাংলাদেশ পরের ১০ ওভারে করেছে ২ উইকেটে ৮৭। ১৬.৩ ওভারে ১৫ মিনিটের বৃষ্টি-বিরতির পর রানের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ২০ বলে ৩২ রানের ছোট্ট ঝড়টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর গড়তে সহায়তা করেছে। এর আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল ১ উইকেটে ১৭৯।

অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ শুরুই করে বাউন্ডারি দিয়ে। স্যামুয়েল বদ্রিকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে লিটন জানিয়ে দেন, আজ নিজেকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে অ্যাশলি নার্সের শেষ তিন বলে ৬, ৬, ৪ মেরে রানরেট এক ঝটকায় ১২-র ওপরে নিয়ে গেলেন। উদ্বোধনী জুটির তরুণ সঙ্গীকে সাহস দিতে থাকা তামিম ইকবালও শুরু করলেন আক্রমণ। তৃতীয় ওভারে তামিম-লিটন দুজনই ঝাঁপিয়ে পড়লেন আন্দ্রে রাসেলের ওপর। ওই ওভারে উঠল ১৯। ২২ বলে ৫০ পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ, যেটি তাদের সবচেয়ে দ্রুত।
শুরুতেই বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেন কার্লোস ব্রাফেট। শুধু মুখে নয়, কাজেও সতীর্থদের জেগে ওঠার বার্তা দিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। শর্ট ফাইন লেগে উইলিয়ামসের ক্যাচ বানিয়ে ১৩ বলে ২১ রান করা তামিমকে ফেরালেন ব্রাফেট। ভাঙল বাংলাদেশের ২৮ বলে ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সৌম্য সরকার বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করলেও টিকলেন মাত্র ৪ বল। কিমো পলের শিকার হয়ে আউট ৫ রান করে। তামিম-সৌম্যকে হারালেও পাওয়ার প্লে দারুণ কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। তুলেছে ২ উইকেটে ৭১। এর মধ্যে ৪৫ রানই লিটনের (১৭ বলে)। বাংলাদেশ দলের তরুণ ওপেনার ফিফটি ছুঁয়েছেন ২৪ বলে, সাদা বলে যেটি তাঁর প্রথম ৫০ পেরোনো। লিটন ফিরলেন কেসরিক উইলিয়ামসকে তুলে মারতে গিয়ে। তার আগে করে গেলেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৬১ রান।

লিটন-তামিমের পর আরেকটি বড় জুটি হয়নি বাংলাদেশের। লিটন-মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ৩১ রানের পর মাহমুদউল্লাহ-সাকিব আল হাসানের পঞ্চম উইকেটে ৩১ বলে ৪৪ রানের জুটি আরও বড় না হওয়ার আক্ষেপ জাগিয়েছে। অসাধারণ শুরুর পর বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোর পাবে কি না, একটা সময় সে সংশয়ও জেগেছে। তবে মাহমুদউল্লাহ-আরিফুল হকের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করা ২৫ বলে ৩৮ রান বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর গড়তে সহায়তা করেছে।

সেন্ট কিটসে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি হেরে যাওয়ার পর ফ্লোরিডায় দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। আর আজ ১৯ রানে হারিয়ে সিরিজটাই জিতে নেওয়া, ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুর্দান্ত বাংলাদেশকেই দেখা গেল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই বাজিমাত! মার্কিন মুলুকে টানা দুটি ম্যাচই জেতেনি, বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

সাকিবদের এই অসাধারণ পারফরম্যান্সে অবিরত সমর্থন জানিয়ে গেছে লডারহিলে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী। লডারহিলের গ্যালারি দেখে কখনোই মনে হয়নি বাংলাদেশ খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘ঘরের মাঠে’! দর্শকদের ভালোবাসার জবাবও সাকিবরা কী দারুণভাবে দিয়েছেন। ক্যারিবীয় দ্বীপে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর ফ্লোরিডার লডারহিলে গ্যালারিভর্তি লাল-সবুজ সমর্থকদের সাক্ষী রেখে তাঁরা জিতলেন টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও।

লিটন আশা হারাননি

ওয়ানডে সিরিজে বসে বসে কেটেছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেলেও প্রথম দুই ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। লিটনের অসাধারণ ব্যাটিং দেখা গেল ফ্লোরিডায় সিরিজনির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে। ফাইনালে রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়েছেন ৬১ রানের দ্যুতিময় ইনিংস খেলে
ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে হাসিখুশি লিটন দাসকেই দেখা গিয়েছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো খেলার পরও পুরো সিরিজটা তাঁর বসে বসে কেটেছে। তাঁর জায়গায় টানা তিন ম্যাচ সুযোগ পেয়েছেন এনামুল হক। দলের জয়ে ন্যূনতম অবদান রাখার সুযোগ মেলেনি, যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এটা হতাশার। তবুও সেদিন লিটন খুশি, দল সিরিজ জিতেছে।Eprothomalo

‘আশা হারিয়ে ফেলেননি তো’—ওয়ানডে সিরিজে না সুযোগ পাওয়া লিটনকে প্রশ্ন করতেই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘যদি হারিয়ে ফেলি?’ প্রশ্নটা যে নিছক রসিকতার সুরে, সেটি তাঁর হাসিমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। আজ ফ্লোরিডার লডারহিলেই প্রমাণ দিলেন, বাংলাদেশ দলের তরুণ ওপেনার আশা হারাননি। আশা হারাননি বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত লিটনকে দেখা গেল।

প্রথম ম্যাচে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েও নিভে যাওয়া, দ্বিতীয় ম্যাচে সেটিও পারেননি। তবুও লিটনে আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফ্লোরিডায় ফাইনালে রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ওপেনার সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হলে গড়তে হবে বড় স্কোর। আর বড় স্কোর গড়তে চাই দুর্দান্ত শুরু। এ বার্তা মাথায় রেখে লিটন ইনিংস শুরু করলেন বাউন্ডারি মেরে।

লিটনের রুদ্ররূপ দেখা গেল অ্যাশলি নার্সের করা দ্বিতীয় ওভারে। টানা দুই ছক্কা আর চার খাওয়ার পর হতাশায় ক্যারিবীয় অফস্পিনার যে ‘শব্দ’টা উচ্চারণ করলেন, আইসিসি আজ তাঁকে জরিমানা করে কি না, সেটিই দেখার (একই কারণে আইসিসি কিন্তু বাংলাদেশের রুবেল ও আবু হায়দারকে জরিমানা করেছে)। উইন্ডিজ খেলোয়াড়দের আরও হতাশায় ডোবাতে লিটনের ব্যাট চলতে থাকল। বাংলাদেশ যে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ৫০ পেরোল, আর পাওয়ার প্লেটা অসাধারণভাবে কাজে লাগাল, তাতে বড় অবদান এ তরুণ ওপেনারেরই।

দলকে ভালো শুরু এনে দেননি, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন ফিফটি। ৬ চার আর ৩ ছক্কায় ১৯০.৬২ স্ট্রাইকরেটে ৩২ বলে ৬১ রান করে থামার আগে দলকে দিয়ে গেছেন চ্যালেঞ্জিং স্কোরের ভিত্তি। এমন দুর্দান্ত ইনিংসের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার তিনি যে পাবেন, সেটিই স্বাভাবিক। তবে লিটনের কাছে এটির তাৎপর্য অন্য রকম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের নায়ক হওয়ার সুযোগ যে পেলেন এই প্রথম। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লিটনের প্রতিক্রিয়া হলো বেশ পরিমিত। সে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নিজের চেয়ে বেশি বললেন দলের অর্জন নিয়ে, ‘আমাদের দলের জন্য বড় জয় এটা। ওরা অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। উইকেটটা আমাদের দেশের মতোই। এটা আমার প্রথম ফিফটি (সীমিত ওভারের ক্রিকেটে)। নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

তরুণ খেলোয়াড়েরা ভালো করতে পারছেন না, কথাটা বেশি উচ্চারিত হয়েছে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। লিটনের এই ইনিংসটা আজ প্রমাণ করল, সিনিয়র এবং তরুণ খেলোয়াড়েরা যদি একসঙ্গে জ্বলে ওঠেন, বাংলাদেশ সাফল্য পাবেই, খেলাটা দেশে হোক কিংবা বিদেশে।

আরও সংবাদ